জীবনটা যেন তিক্ত হয়ে গেছে।

আসসালামু আলাইকুম
20210727_013842.jpg
শৈশব জীবনটা যেন খুব আনন্দময় ছিল।ছিলনা কোন ভাবনা-চিন্তা নিজের মতো করে চলতাম,বাঁধন ছাড়া ছুটে চলা ছিল সেই সময়,ছিল না কোনো ধরাবাধা নিজের ইচ্ছে মত জীবনটা চলছিল। মাঝে মধ্যে মায়ের কর্কশ শাসনে রুদ্ধ হয়ে থাকতাম,বাবার ভালোবাসা বেড়ে উঠেছি। তারপরও ওই জীবনটাই ছিল যেন স্বপ্নের মত।
সেই জীবনটা ছিল আনন্দময়,ছিল না কোন তিক্ততা।

সহপাঠিদের সাথে বউচি, হাডুডু, কানামাছি খেলে দিন পার হত। খেলার ছলে সহপাঠিদের সাথে সারাদিন কাটিয়ে দিতাম। তখনও ছিল না জীবনের প্রতি এত তিক্ততা,ছিল আনন্দময়ী বাঁধন ছাড়া একটি জীবন।

সহপাঠিদের সাথে স্কুলে যেতাম আবার স্কুল থেকে ফিরে আসতাম।সহপাঠীদের সাথে মেলায় ঘুরে যেতাম,তখন বাহারি রকমের জিনিস দেখতাম,তখন কারো অনুমতি লাগত না, মায়ের অনুমতি ছিল যথেষ্ট।

বর্ষা এলেনা নাও নিয়ে যেতাম,সহপাঠীদের সাথে ঘুরতে ঐ অজানা তেপান্তরে। তখনও ছিল না জীবনের প্রতি এত তিক্ততা। তখন এই জীবনটা ছিল উপভোগ করার। বয়সের সাথে সাথে সব যেন পরিবর্তন হয়ে যায়।ফেলে আসা দিনগুলো মনে হলে মনের মধ্যে কেমন যেন লাগে।মন চায় সেই জীবনে চলে যায়,আবার যদি পারতাম আমার শৈশব জীবন টা ফিরিয়ে আনতে।

চঞ্চলতায় গ্রামের প্রতিটা জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর সেইমেয়েটি আজ নীরব নিস্তব্ধ হয়ে ঘরে বসে আছে। নেই কোন সহপাঠী,নেই বাবা-মার কর্কশ রুদ্ধ শাসন।এখন জীবনটা যেন তিক্ততাই ভরে গেছে। বয়সের সাথে সাথে সবকিছু যেন পরিবর্তন হতে চলেছে।গ্রামে ঘুরে বেড়ানোর সেই অভ্যাসটা যেন মেয়েটির আস্তে আস্তে পরিবর্তন হয়ে গেছে, এখন ঘর থেকে বের হতে তিক্ত লাগে।

এক সময় কথার খৈ ফুটত মুখ দিয়ে, অনেক সময় কথা খৈ নিয়ে বিরক্ত হতো বাবা।সারাদিন কথা বলতে বলতে নিজেই ক্লান্ত হয়ে যেতাম,তারপরও কথা বলা বন্ধ করতাম না। তখন কথা বললে নিজেকে অনেক হালকা মনে হতো।
প্রায় সময় বাবা বলতেন কখনো কি তোর কথা বন্ধ হবে না?
আজ সব কিছু যেনো বদলে গেছে,এখন কথা বলতে ইচ্ছে করে না, সারাদিন নিজেকে ঘরের ভিতর বন্দি রাখতে মন চাই। এখন কেন যেন ভয় লাগে কথা বলতে,কারন এখন তো বড় হয়েছি এখন ভুল কথা বলা যাবে না। তখন এর জীবনে ভুল করাটা যেন, ভুল ছিল না বাবা মায়ের কাছে।
এখন শ্বশুরবাড়ির মানুষজন নিজের আপন নয়,তাই তারা আমার ভুলের কারণে বিরক্ত হতে পারে, তাই অনেকটা চিন্তা ভাবনা করে কথা বলতে হয়।

আমি তো এমন জীবন চাইনি,যেখানে নিজের স্বাধীনভাবে কথা বলা যাবে না, নিজের ইচ্ছে মত চলা যাবে না, সবময় ভয়ে থাকতে হবে।চলাফেরা করার সময় নিজেকে সংযত রেখে চলাফেরা করতে হবে,না হলে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা কি ভাবে সেই চিন্তা করতে হয় এখন।ওই শৈশব জীবনে এই চিন্তাটা কখনো করতে হয়নি, কারণ তখন ছিলাম ছোট বাবা মায়ের কাছে।

নিজের পছন্দের জিনিসকে নিজে প্রাধান্য দেওয়া যাবেনা, পছন্দ করার মানুষ তো আছে স্বামীর পরিবারের লোকেরা ,তখন হাজার মন থেকে চাইলেও নিজের পছন্দের জিনিস নেওয়া যাবেনা,অনুমতির অপেক্ষায় থাকা লাগবে। শৈশবের জীবনে আমার পছন্দের জিনিস বাবা-মার কাছে প্রাধান্য ছিল, তখন বাবা মায়ের অনুমতির অপেক্ষায় থাকতে হতো না নিজের ইচ্ছে মত নিতাম, আর ঐ জীবনটাই ছিল সত্যিই আনন্দময়ী।

কোথাও যেতে হলে বাবা মায়ের অনুমতি লাগত, বাবা ঘরে না থাকলে মায়ের অনুমতি যথেষ্ট ছিল।আর এখন স্বামীর অনুমতি,ফ্যামিলির অনুমতি নিতে নিতে যেন তিক্ত হয়ে গিয়েছি। সংসার নামের বাস্তব জীবনটাই যেনো চঞ্চল জীবনটাকে রুদ্ধ করে রেখেছে।এই জীবনের দুশ্চিন্তা মানুষকে পরিবর্তন করতে সময় লাগে না। পরিবারের চাপ, সংসারের চাপ একটা মানুষকে জীবনের প্রতি তিক্ত করে তুলে।

আর তখন জীবনের প্রতি ভালবাসা কমে যায়, তখন হতাশায় হয়ে দিন কাটে,তখন কথা বলতে ইচ্ছে হয়না, তখন স্বপ্ন দেখতে ভয় লাগে।তখন মনের মধ্যেখানে তিক্ততায় ভরে যায়। বেঁচে থাকার আশাটাও মন থেকে চলে যায়।
তখন মন বলে এই জীবন থেকে কখন মুক্তি পাবো?
সেই চিন্তা নিয়ে বসে থাকতে হয়,জানি কখনো এই জীবন থেকে আবার শৈশবের জীবনে ফিরে যাওয়া যাবেনা, তখন এক বুক আশা নিয়ে বসে থাকি, ওই জীবনের স্মৃতি গুলো মনে করে ।

তখন মনে হয় এগুলো স্বপ্ন দেখছি,ওই শৈশবের জীবনটা যেন ছিল বাস্তব জীবন তখন ওই জীবনে যেতে মন চাই, এই জীবনটা যেন তিক্ত হয়ে গিয়েছে।

ধন্যবাদ,

H2
H3
H4
3 columns
2 columns
1 column
Join the conversion now